Header Ads

মিনি কক্সবাজার,সর্বনাশা পদ্মা নদী

মিনি কক্সবাজার,সর্বনাশা পদ্মা নদী

আমরা সাধারনত পরিচিত জায়গা ছাড়া কোথাও ঘুরতে যাই না। অনেকে আবার যেতে চায় না নিরাপত্তার জন্য। আমরা পুরো সাপ্তাহ জুড়ে কর্ম কাজে ব্যাস্থ থাকি, সাপ্তাহিক ছুটি টা আমরা অনেকেই ঘুমি কাটিয়ে থাকি।আবার অনেকেই সময়ের অভাবে কোথাও ঘুরতে যাই না। আসুন নতুন একটি ঘুরে বেড়ানর জায়গা করে দিচ্ছি আপনাদের।


জায়গাটি দেখে কি মনে হচ্ছে , কক্সবাজার তাই না ?না এটি কক্সবাজার না , কিন্তু হা এটি মিনি কক্সবাজার। ঢাকা রাজধানী থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার শেষ প্রান্তে মাহমুদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত পদ্মার পাড় মৈনট ঘাটকে এলাকাবাসী ভালবেসে ডাকে মিনি কক্সবাজার।
যেখানে গেলে আপনি মুগ্ধ হবেন, বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকবেন পদ্মা নদীর অপরূপ জলরাশির দিকে।
এক বিশাল জল রাশি, পদ্মায় হেলেদুলে ভেসে বেড়ানো জেলেদের নৌকা দেখা আর পদ্মার তীরে হেটে বেড়ানো, সব মিলে কিছু ক্ষনের জন্য আপনার মনে হবে,আপনি এখন কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে রয়েছেন। বর্ষা কালে এর সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পায়।রাস্তার দুই পাশের নিম্ন ভূমিতে বাদাম চাষ করা হয়। সূর্যাস্ত দেখনে মনে যে আপনার জীবনের সর্বউত্তম সন্ধ্যা এই সন্ধ্যা। স্পীডবোট, ট্রলার অথবা খেয়া নৌকা নিয়ে পাদ্মার বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে অনেকেই।পাদ্মার জলে পা ভিজিয়ে গল্প করার মজাই আলাদা! মৈনট ঘাটে যাওয়ার সময় ইচ্ছা করলে নবাবগঞ্জের জজ বাড়ি,উকিল বারি,আনসার ক্যাম্প, কবি কায়কোবাদ এর বাড়ি সহ আরও কিছু দর্শনীয় স্থান দেখে যেতে পারেন। ঢাকার বসবাস কারীরা খুব সহজে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এখানে অনেক স্থান থেকে শিক্ষা সফর/ভ্রমণে আসে বহু লোক।
কীভাবে যাবেন ?
মৈনট ঘাটে যাওয়ার সহজ উপায় হল, গুলিস্থান গোলাপ শাহ্‌ মাজার থেকে যমুনা ডিলাক্স প্রাঃ লিঃ পরিবহনে ৯০ টাকার টিকেট নিয়ে সোজা মৈনট ঘাটে যেতে পারেন। এতে আপনার সময় লাগবে দের থেকে আড়াই ঘণ্টা। ফেরার সময় মৈনট ঘাট থেকে ঢাকার ঐ একই বাসে আসতে পারেন। যমুনা ডিলাক্স বাসটি ঢাকার উদ্দেশে শেষ বাসটি ছাড়া হয় সন্ধ্যা ৬ টায়।
এছাড়া আপনি গুলিস্থান থেকে এন মল্লিক বাসে যেতে পারেন। কিন্তু এন মল্লিক বাসে গেলে আপনাকে মাঝিরকান্দা নামক এক স্থানে নামতে হবে, মাঝিরকান্দার বাস ভাড়া ৭০ টাকা,ঐখানে নামলে আপনি জজ বাড়ি,উকিল বাড়ি, দেখে আসতে পারেন। পরে ১৫ টাকা অটো ভাড়া দিয়ে আপনাকে যেতে হবে বাঁশতলা,সেখান থেকে ১০ টা অটো ভাড়া দিয়ে আবার কার্তিকপুর এবং অবশেষে ২০ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে মৈনট ঘাট।
গুলিস্থান ফুলবাড়িয়া থেকে আপনি নগর পরিবহনেও যেতে পারেন। ভাড়া ৯০ টাকা। কিন্তু নগর পরিবহন টি যাওয়ার জন্য নবাবগঞ্জের রাস্তা ব্যবহার করে না। তারা যাওয়ার জন্য মুন্সিগঞ্জের রাস্তা (মাওয়া) ব্যবহার করে। নগর বাসে আসলে আপনাকে কার্তিকপুর নামতে হবে, এবং সেখান থেকে ২০ টাকা রিক্সা ভাড়া করে মৈনট ঘাটে।
গুলিস্থান থেকে জয়পাড়া পরিবহনেও আপনি যেতে পারেন, জয়পাড়া পরিবহনে আসলে আপনাকে জয়পাড়া কলেজের সামনে নামতে হবে, ভাড়া ৭০ টাকা। ২-৩ মিনিট হাটার পরে আপনি ৩০ টাকা অটো ভাড়া দিয়ে যাবেন কার্তিকপুর, সেখান থেকে ২০ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে মৈনট ঘাটে।
আপনি চাইলে সি.এন.জি তে ও যেতে পারেন, তার জন্য আপনাকে দামা দামি করে উঠতে হবে। সি.এন.জি  পাওয়া যাবে কদমতলী থেকে, ভাড়া ৬০০/৭০০ টাকা নিবে।
মোঃ পুর দিও যেতে পারেন সি.এন.জি দিয়ে, মোঃ পুর বেড়িবাঁধ থেকে সি.এন.জি পাওয়া যায়, ভাড়া ৫৫০/৬৫০/৭০০ টাকা নিবে।
সেখানে কি খাবেন?
সেখানে আপনি অনেক ধরনের খাবারই পাবেন।তার মধ্যে অন্যতম হল পাদ্মার ইলিশ, এছাড়া প্রায় সকল ধরনের মাছ ও মাংস পাবেন।
কথায় থাকবেন ?
মৈনট ঘাটে থাকার জন্য কোন আবাসিক হোটেল নেই।
সর্তকতা বাণীঃ-
সাঁতার না জানলে পাদ্মার বেশি গভীরে যাবেন না। সিগারেটএর প্যাকেট, খাবারের প্যাকেট ও বতল পানিতে ফেলবেন না। যার তার সামনে ধুমপান করবেন না। দোকানদার,নৌকাচালক সহ কার সাথে খাপার ব্যবহার করবেন না।যেকোনো সমস্যা হলে মৈনট ঘাটের একটু পাশই অবস্থিত পুলিশ এর সাথে যোগাযোগ করুন।
                
 মোঃ সোহান আহামেদ

No comments

THANK YOU FOR YOUR COMMENT

Powered by Blogger.