দোহারের জানা, অজানা তথ্য
দোহারের জানা, অজানা তথ্য
ঢাকা সংসদীয় ১ নং আসন দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা মিলে।রাজধানী ঢাকা থেকে ৪০
কিলোমিটার দূরে দোহার থানা অবস্থিত। সবুজ-শ্যামলে ঘেরা, নদ-নদী বেষ্টিত এই দোহার
থানা। ১৯২৬ সালা দোহার থানার উৎপত্তি হয় এবং ১৯৮৩ সালা দোহার উপজেলা হিসাবে মান
উন্নীত করা হয়। উত্তরে রয়েছে নবাবগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিনে পদ্মা নদী, পূর্বে শ্রীনগর
উপজেলা (জেলা-মুন্সিগঞ্জ), পশ্চিমে রয়েছে হরিরামপুর উপজেলা (জেলা-মানুকগঞ্জ)।
দোহার উপজেলা ১টি পৌরসভা, ৮ টি ইউনিয়ন,৯৩ টি মোজা, এবং ১৩৯ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। এই
উপজেলায় প্রায় ২,২৬,৪৩৯ জন লোকের বসবাস। এর মধ্যে ১,০৭,০৪১ জন প্রায় পুরুষ এবং
১,১৯,৩৯৮ জন মহিলা। লোক সংখ্যার ঘনত্ব ১,৪০২ জন প্রতি বর্গ কিলোমিটারে।
এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সহজ সরল এবং ধর্ম প্রেমী। এখান কার
লোক জন একে অপরকে সাহায্য করতে কখন পিছু পা হয় না।এর জন্য প্রায় প্রতি গ্রামে
সমাজের উদ্দেশে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ক্লাব ও সংগঠন।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও দোহার উপজেলা পিছিয়ে নেই। এই উপজেলায় ৩টি
কলেজ রয়েছে এর মধ্যে ১ টি সরকারি করার প্রস্তাবিত চলছে। ১৬ টি উচ্চ বিদ্যালয়,৪২ টি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,৪ টি মাদ্রাসা এবং ১৮ টি বেসরকারি কেজী স্কুল ও রয়েছে এই
উপজেলাতে। এছাড়া রয়েছে ১ টি আশ্রম (আঙ্গিনা)।
চিকিৎসার জন্য বয়েছে বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল। হাসপাতাল
গুলির চিকিৎসার মান অনেক ভাল এবং উন্নত। এছাড়া গরীব দুঃখীদের জন্য রয়েছে ১ টি
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ১৬ টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র।
১ টি পশু হাসপাতালও রয়েছে এই উপজেলাতে।
দোহার উপজেলার মানুষ অনেকটা রাজনীতি মুখী, এই অঞ্চলের ৬২ %
মানুষ কোন না কোন ভাবে রাজনীতি তে জরিয়ে আছে। শেখ মজিবুর রহমানের সাথে কাঁধে কাঁধ
মিলিয়ে তৎকালীন সময় এম.পি ছিলেন আশরাফ আলী চৌধুরী। এর পরে এম.পি ছিলেন রফিক উকিল, ক্যাপ্টেন নুরুল হক,
খন্দকার সাহিদ, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা,এবং অ্যাডভোকেট
আব্দুল মান্নান খান। বর্তমানে দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার এম .পি হলেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।
অর্থনীতির দিক দিয়ে দোহার উপজেলা অনেক উন্নতি করেছে। দোহার
উপজেলার অর্থনীতির বেশির ভাগ অংশই আসে রেমিটেন্স থেকে। দোহারের প্রধান বানিজ্যক
এলাকা জয়পাড়া বাজারে প্রায় এক বর্গ কিলমিটারের মধ্যে ২০ টির বেশি সরকারি ও
বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে। এছাড়া মেঘুলা, ফুলতলা, পালামগঞ্জ এ কিছু সংখ্যক ব্যাংক
রয়েছে। দোহার উপজেলার প্রধান ব্যাবসা হল তাঁত শিল্প। এছাড়া অনেকই কৃষি কাজ করে
থাকেন। এই উপজেলায় বিভিন্ন জেলার লোক এসে কাজ-কর্ম ও ব্যাবসা বানিজ্য করছে।
বেশ কিছু দিন ধরে জনপ্রিয় মিনি-কক্সবাজার (মৈনট ঘাট) দোহারে
অবস্থিত।এছাড়া দোহার পোর্ট (বাহ্রা ঘাট), নারিশা পদ্মার পার, আড়িয়াল বিল (নিকড়া),
ডাক বাংলো (মুক্সুদপুর),সাইনপুকুর বড় বাড়ি ইত্যাদি রয়েছে।এই অঞ্চলে প্রতি বছর অনেক
বড় বড় মেলা হয়ে থাকে।
এই অঞ্চলে অনেক কৃতী ব্যক্তি রয়েছে== সালমান এফ রহমান
(বেক্সিমকো গুরুপ),সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা,মেজর জেনারেল
প্রফেসর ডঃ এ এর খান ( সাবেক উপদেষ্টা ৯৬), সাবেক মন্ত্রী আশরাফ আলী চৌধুরী,
আন্তজার্তিক ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার শামীম আশরাফ চৌধুরী। এছাড়া আরও অনেকেই রয়েছেন।
দোহার উপজেলা একটি আধুনিক ও বানিজ্যক পরিপূর্ণ উপজেলা।
***মোঃ সোহান আহামেদ***





No comments
THANK YOU FOR YOUR COMMENT